আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য এবং শাসকবৃন্দের স্বেচ্ছাচারিতা-

আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য এবং শাসকবৃন্দের স্বেচ্ছাচারিতা-
দুর্নীতিবাজকে শাস্তি দিয়ে রাষ্ট্রে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না । দুর্নীতির কারণ দূর করলেই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন অপরাধ বা দুর্নীতি করার প্রয়োজন হবে না।রাজনীতি যখন নাগরিকদের রাষ্ট্র নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করবে , ব্যক্তির অর্থ সম্পদের প্রয়োজন থাকবে না। তখন দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে।
দুর্নীতিবাজ হয়ে কোন নাগরিক জন্মায় না। রাষ্ট্র ও তার রাজনীতি তাদের দুর্নীতিবাজ হওয়ার পথ দেখায় । আমার দেশের সাধারন জনগন রাষ্ট্রের কোন লুটপাট ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নহে। অথচ এ দেশে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষই বেশি। যে যেভাবে পারছে সুবিধা নিচ্ছে। সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। আরাম কেদারায় বসে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক মালিকের সাথে ব্যস্ততার ভাব দেখাইয়া যত বেশি অসদাচরণ করা যাবে সেটাই যেন কিছু লোকের অতিরিক্ত যোগ্যতা! কেন এমন হবে? সবাইতো বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে দায়িত্বশীল কেদারায় বসেন। সবাই নীতি কথা বলে; অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে পদ-পদবীতে আসীন হন। তবুও কেন সমাজে, রাষ্ট্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য কমে না? সবাই দেখি এক লাইনে। সকলে চামড়া বদল করে প্রিয়ভাজন হয়ে যায়। চাটুকারিতা করাই মনে হয় সর্বোচ্চ যোগ্যতা!
মাঝে মাঝে মনে হয় দেশ চালাইতে সার্টিফিকেট নির্ভর মেধা লাগেনা! যদি লাগতো তবে মাধ্যমিক পাশ না করেও রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হওয়া যেতো না! স্থানীয় সরকার কিংবা জাতীয় সরকার কোথাও নির্বাচিত হতে সার্টিফিকেট নির্ভর মেধার প্রয়োজন পড়ে না! বাংলাদেশে যেত সরকারি চাকরিজীবী আছে,পৃথিবীর কোন উন্নত রাষ্ট্রে এতো সরকারি চাকরিজীবী নেই।পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবী নিয়োগ করে,তাই উন্নত রাষ্ট্রে দুর্নীতি কম।আমাদের বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র করতে হলে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা কমিয়ে চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীর সংখ্যা বাড়াতে হবে।

---------------------------------------------

No comments:

Post a Comment