বাংলা‌দেশী সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট Porosh এর যাত্রা শুরু।

আপনি যদি ইন্টারনেটের দুনিয়ায় নতুন না হয়ে থাকেন তাহলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট পরশ (POROSH cast নামেও পরিচিত) এর নাম নিশ্চয়ই শুনে থাকবেন।
অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগ বলতেই আমরা বুঝি ফেসবুক, টুইটার। দুটি প্রতিষ্ঠানই বিদেশী।
আমাদের দেশি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের সংখ্যা কম হলেও এ নিয়ে কাজ চলছে পরশ। তেমনই একটি দেশীয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ‘Porosh Cast। নতুন এই বাংলা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের উদ্যোক্তা রাজা সেহেলী মাহমুদ পরশ।
 বিভিন্ন মিডিয়ার সঙ্গে আলোচনায় পরশ মাহমুদ জানান porosh সম্প‌েকেÝ বিস্তারিত। নিজের আগ্রহ থেকেই তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন সাইট নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। নিজের সাইট তৈরির আগে দেখে নেন বাংলাদেশের অন্যান্য সাইটের অবস্থা।
গত ২০১২ সাল ধরে বিভিন্ন দেশী বিদেশী সাইট দেখে সিদ্ধান্ত নেন, বাংলাদেশি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট তৈরির। সে ভাবনা থেকেই এ থেকেই কাজ শুরু করেন Porsh এর। গত ১লা আগস্ট থ‌েকে সাইটটি ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
কেমন সাড়া পাচ্ছেন—জানতে চাইলে বিজয় বলেন, ‘মাত্র ১ মাসে ৩০ হাজারের বেশি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে Porosh cast। সব সময়েই অনলাইনে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যবহারকারী অ্যাকটিভ রয়েছেন এবং দিন দিন এর সংখ্যা বাড়ছে।’
ফেসবুক, টুইটার থাকার পরও কেন Porosh? এমন প্রশ্নের জবাবে ত‌িনি বলেন, ‘এখানে পোস্ট দিলে পোস্টগুলো পিন আকারে দেখা যাবে। হ্যাশট্যাগ দিয়ে পোস্টগুলো আলাদা করা যাবে। নিজের পোস্টকে ব্যবহারকারীরা প্রমোট করতে পারবেন। ফেসবুক, টুইটার, পিন্টারেস্ট—তিনটা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের সুবিধাই এখানে একসঙ্গে পাবেন ব্যবহারকারীরা। তবে এখানে যে‌ কাউকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো যাবে। একজন ব্যবহারকারী অন্যদের পোস্টগুলো দেখতে পারবেন সহ‌জে। সে সঙ্গে ভিডিও এবং ছবি শেয়ার করা যাবে।’

Porosh সাইটটি প্রতিনিয়ত আপগ্রেডেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পরশ। ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য টুইটার ও ইয়াহু অ্যাকাউন্ট দিয়েও ব্যবহার করা যাবে porosh। ফেসবুক দিয়েও  porosh cast ব্যবহার করা যায়। সে সঙ্গে গুগল সার্চ যোগ করারও কাজ চলছে।
পরশ বলেন, ‘porosh cast হোমপেজটাকে আরেকটু আলাদা করার চেষ্টা করছি। প্রতিদিন নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হচ্ছেন সাইটটিতে, তাঁদের সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে porosh বলেন, ‘বাংলাদেশের সাইটগুলোর জন্য অ্যাড নেটওয়ার্ক তৈরির ইচ্ছা আছে। সেটা নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া বাংলায় প্রযুক্তি কনটেন্ট দেওয়ার জন্য তৈরি করেছি porosh network নামে একটি ওয়েবসাইট, যাতে পাঠক-লেখক তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারেন।’

লগইন /রে‌জি‌ষ্টেশন করুন এখান থে‌কে: http://poroshcast.com/

অথবা porosh Apps ডাউন‌লোড করুন লিংক : https://drive.google.com/file/d/1EzE8967FqxpXr0s8cN7wcNfdwf6xSSEP/view?fbclid=IwAR2v3OO3hGaTJR8zFhABKq0x6c7TD8jW5i-a6ndNzCtSwXE92Ski_gKTao8

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার

চরের মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার-


পাহাড়ী ঢল আর টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ৯জুলাই থেকে ২৮জুলাই পর্যন্ত টানা বিশ দিনের বন্যায় জেলার ৪০৫টি চর ও দ্বীপ চরের ৯লাখ ৫৮ হাজার মানুষ সীমাহীন দূর্ভোগের মধ্যে পড়ে। ত্রাণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটাছুটি করে জীবন বাঁচাচ্ছে চরবাসিরা। এরই মধ্যে আজ ঈদুল আজহা উৎযাপিত হলো।সামর্থ না থাকায় পশু কোরবানী করে ঈদের আনন্দ ছিল না চরবাসসিদের। দুটি চরে গরু কোরবানী করে ৩০০পরিবারের মাঝে মাংশ বিতরণ করে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিলেন কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

জাতীয় শোক দিবস

আজ ১৫ আগস্ট। জাতীয় শোক দিবস। স্বাধীনতার স্থপতি, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী।

১৯৭৫ সালের শোকাবহ এই কালো দিবসে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমণ্ডির বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে।

শেখ মুজিব ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারতীয় উপমহাদেশের একজন অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাঙালির অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কেন্দ্রীয়ভাবে নেতৃত্ব প্রদান করেন।

প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসাবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের "জাতির জনক" বা "জাতির পিতা" বলা হয়ে থাকে।

তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

জনসাধারণের কাছে তিনি শেখ মুজিব এবং শেখ সাহেব হিসাবে বেশি পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর উপাধি "বঙ্গবন্ধু"।

শ‌িকলে বাঁধা মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুকে মুক্তকরলেন কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার

শ‌িকলে বাঁধা মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুকে মুক্তকরলেন কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম। শিশুটিকে ঈদের উপহার দেয়ার পাশাপাশি তার চিকিৎসার দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। গত ৯আগষ্ট পুলিশ সুপার, কুড়িগ্রাম ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘চিলমারী পেট্রোল পাম্প এলাকায় মানসিক প্রতিবন্ধী এক শিশুকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার খবর গত ৮আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) পেয়ে ওসিকে পাঠিয়ে সুরভীর শিকল খুলে দিলেও আবার তার বাবা মা শিকল পরিয়ে রাখেন। কারণ শিশুটি দৌড়ে রাস্তায় চলে যায়। গত ৯আগষ্ট (শুক্রবার) জেলা পুলিশের তরফ থেকে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলাম শিশুটির পা বাঁধা। আমাকে কাছে পেয়েই তার আকুতি আমারে খুলে দেও, বললাম খুললে তুমি বাইরে যাবা না তো? সুরভীর চিকিৎসা শুরু হয়েও এগোয়নি দারিদ্র্যের কারণে। কথাবার্তা পুরো স্বাভাবিক। সুরভীকে বেঁধে না রেখে চোখে চোখে রাখার জন্য বললাম। জেলা পুলিশের তরফ থেকে সুরভীকে ঈদের জামা আর কিছু খাবার উপহার দেয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন ওসি চিলমারী মোয়াজ্জোম হোসেন। আমার বন্ধু ডা. ওয়ালিদের সঙ্গে কথা বলে সুরভীর দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন বলে মনে হলা। তার চিকিৎসার ব্যাপারে জেলা পুলিশের তরফ থেকে সহায়তা করা হবে।

খুব সহ‌জে জে‌নে‌ নিন আপনার জেলার তাপমাত্রা

খুব সহ‌জে জে‌নে‌ নিন আপনার জেলার তাপমাত্রা কত ডি‌গ্রি-

যেকোন জেলার তাপমাত্রা জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন
https://www.google.com/search?q=temperature+in+dhaka
লিংকটির শেষের দিকে দেখুন স্থানের নাম dhaka দেওয়া আছে। আপনি যদি আপনার নিজের এলাকার তাপমাত্রা জানতে চান তাহলে dhaka স্থলে আপনার নিজ জেলার নাম দিন।
আরেকটি কথা, আপনি সেলসিয়াসে দেখতে চাইলে সেক্ষেত্রে c° এর উপর ক্লিক করুন। c° এর উপর ক্লিক করলে সেলসিয়াসে তাপমাত্রা দেখতে পাবেন।

তথ্য লিংক ভিজিট করুন: https://www.facebook.com/Shafiul-Islam-Shafi-104526244230802/

পাগলীর সন্তান ও আমাদের অবস্থান

---পাগলীর সন্তান ও আমাদের অবস্থান

ছবি: গত আগষ্ট/২০১৮ সালের  কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ঘটনা -

আবারো পাগলীকে নিয়ে লিখতে বাধ্য হলাম। কেন না বার বার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি সত্যিই আমাকে কিছুটা হলেও মর্মাহত করে তুলেছে। এর আগেও "পাগলীর সন্তান প্রসব" শিরোনামে একটি লেখা লিখেছিলাম। আবারো একই ঘটনা। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে এক পাগলীর ছেলে সন্তান প্রসব। কিন্তু সেই সন্তানের জনকদের আমরা খুঁজে বের করতে পারি না।

আমাদের এতো পুলিশ, গোয়েন্দা, ডিবি, এসবি থাকতে পাগলীদের সাথে যৌন সঙ্গমকারীদের খুঁজে পাই না। নাকি অভিযোগ কারী না থাকলে এই জেনাকারী পুরুষদের খোঁজার কোন নিয়ম নাই। নাকি পাগলীদের ধর্ষনের বিষয়ে এদেশের সংবিধানে কোন আইন নাই এজন্যই তাদের খোঁজা হয় না। নাকি সেখানে কোন লাভ-লসের হিসাব নাই এজন্য সে বিষয়ে প্রশাসনের কোন মাথা ব্যাথা নাই।

ঘটনার বিবরন দেয়ার আগে পাগল বা পাগলী বিষয়ে আমার উপলদ্ধির কথা বলতে চাই। সেটা এরকম যে সৃষ্টি কর্তা এই মানব জাতির মধ্যে কিছু মানুষকে পাগল বানিয়েছেন। যাতে করে যারা পাগল হননি তারা এই পাগলদের দেখে ভাবতে পারেন যে সৃষ্টি কর্তা যে কোন মুহুর্তে তাদেরকেও পাগল বা পাগলী বানাতে পারেন। এই উপলদ্ধি থেকেই তারা যেন সৃষ্টি কর্তাকে ভয় করেন।

আর একটা উপলদ্ধি কথা না বললে নয়। আমার উপলদ্ধিতে পাগল হলো একটা সম্পুর্ণ স্বাধীন চেতনার নাম। পাগলদের কোন ঘর-বাড়ি থাকে না। তাদেরকে কোন ঘর-বাড়িতে আপনজনেরাও আটকিয়ে রাখতে পারে না। তারা দেশের আইন মানে না, রাজনীতি করে না। কাজ করে না, ব্যবসা-বানিজ্যও করে না। ভালো পোশাক পড়ে না, ভালো খাবারও খায় না। এক কথায় পৃথিবীতে তাদের কোন দায় বদ্ধতা নেই।

কিন্তু হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেয়া এই পাগলী কোন দায় বদ্ধতা থেকে সন্তান জন্ম দিলো। নাকি আমাদের মতোই সুস্থ দিনের বেলায় ভদ্র কোন পুরুষ তাকে দায় বদ্ধতায় ফেলে দিয়েছে।
পাগলীর সন্তান জন্ম দেয়ার এ ঘটনায় প্রাগৈতিহাসিক গল্পটার কথা মনে পড়ে গেল। এক সময়ের ডাকাত শেষ বয়সে এসে ভিক্ষা বৃত্তি করে খেলেও তার কিন্তু যৌবনের ক্ষধা শেষ হয়ে যায়নি। সে সময় সুযোগ বুঝে এক ভিখারিনীকে কাঁধে তুলে জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং যৌন ক্ষুধা মিটায়। বাঁধা দেয় না ভিখারিনীও। কেন না তারও তো একই ক্ষুধা আছে। এমন ঘটনা সন্তান জন্ম দেয়া এ পাগলীর ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। কিন্তু সেটারও তো তদন্ত হওয়া উচিৎ নয় কি?
আর যদি কোন পাগল পাগলীর সাথে প্রাগৈতিহাসিকের মতো ঘটনা না ঘটিয়ে থাকে তাহলে এর দায়ভার কে নিবে।

গুটি কয়েকজন যুবক বা ব্যাক্তি পাগলীর প্রেগনেন্ট হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে অতি উৎসাহী হয়ে তাকে জোড় করে রাস্তা থেকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং ফ্রীতে মেডিকেল চেকআপ করিয়ে প্রেগনোন্সির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। কিন্তু এই পাগলী তারপর থেকে সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও তাকে পাহাড়া দেয়ার দায়িত্ব কেউ নেয়নি। কেন না এই সময়ের মধ্যে পাগলী বহুবার হাসপাতাল ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়েছ আবার ফিরে এসেছে অবস্থায় গর্ভবতী পাগগলীর দাযভার নিতে চায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। এ রকম একটা অবস্থার এক সময হাসপাতালেই পাগলীর প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং পাগলী একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে।

বিষয়টি জানার পর অনেকেই উৎসাহী হয়ে ওঠে এবং হাসপাতালে পাগলীর সন্তান ও পাগলীকে দেখতে যাচ্ছেন। এমন কি পাগলী ও তার সন্তানকে জামা কাপড়ও কিনে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয় কুড়িগ্রামের  জেলা প্রশাসকও জামা-কাপড় পাঠিয়েছেন।
এখন আমার যেটা চাওয়া সেটা হলো যারা পাগলীকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন এবং প্রশাসনের যারা বিষয়টি অবগত হয়েছেন তাদের উচিৎ পাগলীর সন্তানের বাবা যেই হোক তাদেরকে খুঁজে বের করা এবং মুখশ উন্মোচিত করা। তানাহলে মানুষের চরিত্র নিমজ্জিত হতে হতে তলানীতে গিয়ে ঠেকবে।

© বাদশাহ্ সৈকত

আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য এবং শাসকবৃন্দের স্বেচ্ছাচারিতা-

আমলাতন্ত্রের দৌরাত্ম্য এবং শাসকবৃন্দের স্বেচ্ছাচারিতা-
দুর্নীতিবাজকে শাস্তি দিয়ে রাষ্ট্রে দুর্নীতি বন্ধ করা যাবে না । দুর্নীতির কারণ দূর করলেই বন্ধ হয়ে যাবে। তখন অপরাধ বা দুর্নীতি করার প্রয়োজন হবে না।রাজনীতি যখন নাগরিকদের রাষ্ট্র নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করবে , ব্যক্তির অর্থ সম্পদের প্রয়োজন থাকবে না। তখন দুর্নীতি বন্ধ হয়ে যাবে।
দুর্নীতিবাজ হয়ে কোন নাগরিক জন্মায় না। রাষ্ট্র ও তার রাজনীতি তাদের দুর্নীতিবাজ হওয়ার পথ দেখায় । আমার দেশের সাধারন জনগন রাষ্ট্রের কোন লুটপাট ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নহে। অথচ এ দেশে সাধারন খেটে খাওয়া মানুষই বেশি। যে যেভাবে পারছে সুবিধা নিচ্ছে। সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ কাউকে ছাড় দেয় না। আরাম কেদারায় বসে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক মালিকের সাথে ব্যস্ততার ভাব দেখাইয়া যত বেশি অসদাচরণ করা যাবে সেটাই যেন কিছু লোকের অতিরিক্ত যোগ্যতা! কেন এমন হবে? সবাইতো বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে দায়িত্বশীল কেদারায় বসেন। সবাই নীতি কথা বলে; অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলে পদ-পদবীতে আসীন হন। তবুও কেন সমাজে, রাষ্ট্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য কমে না? সবাই দেখি এক লাইনে। সকলে চামড়া বদল করে প্রিয়ভাজন হয়ে যায়। চাটুকারিতা করাই মনে হয় সর্বোচ্চ যোগ্যতা!
মাঝে মাঝে মনে হয় দেশ চালাইতে সার্টিফিকেট নির্ভর মেধা লাগেনা! যদি লাগতো তবে মাধ্যমিক পাশ না করেও রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হওয়া যেতো না! স্থানীয় সরকার কিংবা জাতীয় সরকার কোথাও নির্বাচিত হতে সার্টিফিকেট নির্ভর মেধার প্রয়োজন পড়ে না! বাংলাদেশে যেত সরকারি চাকরিজীবী আছে,পৃথিবীর কোন উন্নত রাষ্ট্রে এতো সরকারি চাকরিজীবী নেই।পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবী নিয়োগ করে,তাই উন্নত রাষ্ট্রে দুর্নীতি কম।আমাদের বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র করতে হলে সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা কমিয়ে চুক্তিভিত্তিক চাকরিজীবীর সংখ্যা বাড়াতে হবে।

---------------------------------------------
ব্রহ্মপুত্র নদে-অপূর্ণ ইচ্ছে- যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ মন্থরে-সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই চরণ বুকের মধ্যে গুঞ্জরণ তুলছিল প্রেক্ষাপটটা তখন এমনই ছিল। আসি আসি করছে সন্ধ্যা। যদিও সংগীত কিন্তু তখনও থেমে যায় নি। বরং ভিন্ন ভিন্ন সুরের আলাপনে পরিবেশটা হয়ে ওঠে মাধুর্যময়। দূর থেকে ভেসে আসছে পাখিদের কলকাকলি। নদীর মৃদু সুরধুনীধারা। মানুষের কলরোল। ব্রহ্মপুত্র নদের মধ্যিখানে শম্বুকগতিতে বয়ে চলেছে নৌকা। কোথাও যাবার কোনো তাড়া নেই। সময়টাকে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করাটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। দেখছিলাম চারপাশের নৈসর্গিক সৌন্দর্য। চলমান স্বচ্ছ পানি। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। পাখিদের ক্লান্ত উড়াউড়ি। নদীতে পর্যটনশীল পালতোলা নৌকা। দুই পাশে সবুজের সমারোহ। নদীর পানিতে নানান রঙের খেলা। পরিবেশটা হয়ে ওঠে মায়াবী। কেউবা স্মার্ট ফো‌নের ক্যামেরায় প্রিয় কোনো মুহুর্ত বা মনের রাখার মতো ফ্রেমের সন্ধানে। প্রকৃতির অবারিত সান্নিধ্য একটু একটু করে নিভে আসছিল আলো। মনটা আকুলি-ব্যাকুলি করলেও অপূর্ণ ইচ্ছে নিয়ে ফিরতে হয় বা‌ড়ি‌তে।

 
আমার পরিচয়
    সৈয়দ শামসুল হক

আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি,
             আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি।
চলি পলিমাটি কোমলে আমার চলার চিহ্ন ফেলে।
       তেরশত নদী শুধায় আমাকে, ‘কোথা থেকে তুমি এলে?’
আমি তো এসেছি চর্যাপদের অক্ষরগুলো থেকে।
              আমি তো এসেছি সওদাগরের ডিঙার বহর থেকে।
আমি তো এসেছি কৈবর্তের বিদ্রোহী গ্রাম থেকে।
        আমি তো এসেছি পালযুগ নামে চিত্রকলার থেকে।

এসেছি বাঙালি পাহাড়পুরের বৌদ্ধবিহার থেকে।

এসেছি বাঙালি জোড়বাংলার মন্দির-বেদি থেকে।
           এসেছি বাঙালি বরেন্দ্রভূমে সোনা মসজিদ থেকে।
এসেছি বাঙালি আউল-বাউল মাটির দেউল থেকে।
              আমি তো এসেছি সার্বভৌম বারোভূঁইয়ার থেকে।
 আমি তো এসেছি ‘কমলার দীঘি’, ‘মহুয়ার পালা’ থেকে।
          আমি তো এসেছি তিতুমীর আর হাজী শরিয়ত থেকে।
 আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণার থেকে।
এসেছি বাঙালি ক্ষুদিরাম আর সূর্য সেনের থেকে
            এসেছি বাঙালি জয়নুল আর অবন ঠাকুর থেকে।
এসেছি বাঙালি রাষ্ট্রভাষার লাল রাজপথ থেকে
                  এসেছি বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর থেকে।

আমি যে এসেছি জয়বাংলার বজ্রকণ্ঠ থেকে।
           আমি যে এসেছি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে।
এসেছি আমার পেছনে হাজার চরণচিহ্ন ফেলে।
             শুধাও আমাকে ‘এতদূর তুমি কোন প্রেরণায় এলে?’

তবে তুমি বুঝি বাঙালি জাতির ইতিহাস শোন নাই-
               ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’
একসাথে আছি, একসাথে বাঁচি, আজও একসাথে থাকবই-
       সব বিভেদের রেখা মুছে দিয়ে সাম্যের ছবি আঁকবই।


Pc/ https://www.facebook.com/shafiur.islam

চাঁদ তো মঙ্গলেরই অংশ: ট্রাম্প

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা কেন ফের চন্দ্রাভিযানে মনোযোগ দিচ্ছে, এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি চাঁদকে মঙ্গলের অংশ বানিয়ে এবার জ্যেতির্বিজ্ঞানে আগ্রহীদের আক্কেলগুডুম করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।